গত ১৪ই সেপ্টেম্বর ছিল আমার জন্মদিন। প্রতি বছর ঠিক এই সময় বিভিন্ন অসুখ আমার সাথে দেখা করতে আসে

। এইবার যিনি দেখা করতে আসছেন উনার নাম
bell's palsy .
১৩ই সেপ্টেম্বর ঘুম থেকে উঠে দেখি মুখের ডান দিকটা আমি নিয়ন্ত্রন করতে পারছি না

। ডান চোখের পিছনে ব্যাথা করতেছে। চোখ বন্ধ করতে চাইলে শুধু বাম চোখ বন্ধ হচ্ছে, ডান চোখ বন্ধ হচ্ছে না। মুখে পনি আটকে রাখতে পারছি না।কিন্তু মুখের ডানদিকের অনুভতি ঠিকই
আছে।ভাবলাম ঠিক হয়ে যাবে। দিলাম আবার ঘুম। উঠে দেখি অসুখ আরো বেড়েছে। আলোয় ডান চোখের ব্যাথা আরো বাড়ে, মাথার ডান দিকে খুব ব্যাথা করতেছে।মাথা ব্যাথার ঔষধ খেলাম। ব্যাথা একটু কমলো। পরের দিন ব্যাথা আরো বাড়লো।সার দিন ঘুমিয়ে কাটালাম। আম্মা ব্যাপারটা
বুঝে গেলেন। তারপর তার চেঁচামেচি সহ্য করতে না পেরে ডাক্তারের কাছে গেলাম

। আম্মা ভীষন ভয় পাইছিলেন,ভাবছিলে কিনা কি হইছে। আমার অতীত খুব ভাল তো তাই। আমিও ভাবছিলাম ঘুমের মাঝে ষ্টোক ফ্টোক করলাম না তো?চলে যাওয়ার সময় হলো নাকি?কিন্তু শয়তান তো
এতো সহজে মরে না।খারাপ মানুষের আয়ু অনেক লম্বা হয়।আমার তো এখন যাবার কথা না!!!

ডাক্তার ব্যাটা আমারে দেখে কয় কোন ব্যাপার না ঠিক হয়ে যাবেন। কোন টেষ্টও করতে দিলো না। সন্দেহ হলো ডাক্তারের হয়তো মাথা ঠিক নাই। যাহোক উনি ৩টা ঔষধ দিলেন।চোখে দেওয়ার জন্য একটা ড্রপ দিলেন।আর বললেন থেরাপি দিতে।থেরাপি দিতে যেখানে
গেলাম সেখানের দিদিও দেখি আমার অসুখটারে বলে এটা কিছুই না।বলে ১৫/২০ দিনে আমি ঠিক হয়ে যবো। কয়েকটা ব্যায়াম শিখিয়ে দিল, সব সময় এই ব্যায়াম গুলি করতে বললো।বাসায় আসার পথে প্রেসক্রিপশন হারইলাম।আম্মা তো বিশ্বাস করতে চায় না, ভাবে নিশ্চয় বড় কোন আসুখ,
তাই প্রেসক্রিপশন ইচ্ছা করে ফেলে এসেছি।আমিও ভাব লইলাম।আলাদা খাতির যত্ন পাইতে কার না ভাল লাগে।আর মা তো মা'ই,টেনশন তো সে করবেই।বাসায় ব্যায়াম করা শুরু করলাম,গাল ঘসতে ঘসতে চামড়া
তুলে ফেলার অবস্থা। আর নেটে শুরু করলাম ব্যাল্স পালসি নিয়া ঘাটা ঘাটি। দেখি হায় হায় আমি একা না অনেকের এই রোগ আছে। অনেকে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে গেছে,অনেকের আবার অনেক দিন গেছে সুস্থ হতে। তাই নতুন উদ্দমে ব্যায়াম নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লাম। আজ প্রায় ১ মাস হতে চললো,আমি এখন অনেকটা সুস্থ।
আপনারও যদি এমন হয় যে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন মুখের একপাশ কাজ করছে না তবে ভয় পাবেন না। এটা বড় রোগের শুধু ভাব লয়, বড় কোন রোগ না। স্টোরয়েড ঔষধ আর ব্যায়াম ঠিক মতো করলে খুব তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে যাবেন। অসুস্থ অবস্থায় বেশী করে নিজের ছবি তুলবেন। অনেক মজার ছবি পাবেন। আর এই রোগটা যার একবার হয় তার আবার হওয়ার সম্বাবনা থাকে।
উনাদেরও এই অসুখ হইছিল,তার এখন সম্পূর্ন সুস্থ।
আলোর সমস্যাটা এখনো আছে তাই ব্লগে অনেকের লেখা এখন পড়া হয় না, আগের মত মন্তব্যও করা হয় না। আমার জন্য দোয়া করবেন। ভাল থাকুন সবাই।